Ebong Alap / এবং আলাপ
 

নজরে অল আউট : 'টাফ মম' ও মেয়েদের মর্যাদা

(January 5, 2019)
 

 

আজকাল বেশ কিছু বিজ্ঞাপনে মেয়েদের ক্ষমতায়নের প্রশ্ন উঠে আসছে। ‘অল আউট’ মশা তাড়ানোর ধূপের এই বিজ্ঞাপনটি এমনই একটি বিজ্ঞাপন। বিজ্ঞাপনে আমরা দেখি যৌথ পরিবারের সবাই ডিনার খেতে বসেছে। পরিবারের একটি ছোট ছেলে তার মায়ের ব্যাগ থেকে দশ টাকা চুরি করার জন্য তার মা তাকে কিছু একটা শাস্তি দিচ্ছে। খাবার দিচ্ছে না, বা এমন কিছু। ছেলে-র সঙ্গে এই রকম ব্যবহার করবার জন্য মায়ের শাশুড়ি, স্বামী তাকে বকছে।  স্বামীটি তো স্ত্রীকে বেশ কুৎসিত কথাই বলছে। যেমন, 'ও তো ওর নিজের বাবার ( মানে স্বামীটির) টাকাই নিয়েছে, তোর বাবার তো নেয়নি' ইত্যাদি। তার মানে মা যে কোনও রোজগার করেন না, স্বামীর পয়সায় খান, ফলে টাকাটা এক ভাবে তাঁরও ‘চুরি’ করা টাকা, এই ইঙ্গিত স্পষ্ট। বোঝা যাচ্ছে পরিবারের ভেতরে বউ-এর সঙ্গে এই রকম ব্যবহার করা যায় এবং করা হয়ে থাকে।  যৌথ পরিবারের অন্য মহিলারাও স্বামীটির সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন। এবং খিস্তিগুলো মহিলার বাপের বাড়ির ওপরে গিয়ে পড়ছে, ‘ছোটলোক পরিবারের মেয়ে’, ‘মা তোকে কিছু শেখায়নি?’ ইত্যাদি। বলা বাহুল্য, গালিগালাজগুলো সবই সেই ছেলে আর পরিবারের বাকি ছোটদের সামনেই চলছে। টেবিলে দুটি ছোট মেয়েও আছে। এমন সময় পরিবারের কর্তা ঘটনাটার নিয়ন্ত্রণ হাতে নিয়ে তাঁর পূত্রবধূর পক্ষ নেন, শিশুটির আজকের অপরাধের শাস্তি না দিলে যে তার ভবিষ্যৎ অন্ধকার হতে পারে সে কথা বলেন। বউমাকে বলেন, তুমি ঠিক করেছ। টেবিলে খেতে বসা বাচ্চা মেয়েগুলো দু’জনে দু’জনের দিকে ইঙ্গিতপূর্ণ ভাবে তাকায়।

এরপর বিজ্ঞাপনদাতারা আমাদের বলেন, যে মায়েরা শক্ত হাতে সংসার সামলান, তাঁদের পাশে দাঁড়াতে, কারণ সেই মায়েরাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আগামী দিনগুলোকে সুরক্ষিত করছেন। আজকাল বিজ্ঞাপনে কোনও ব্র্যান্ডের ফিলসফির ওপর বিজ্ঞাপন করবার চল হয়েছে, এই বিজ্ঞাপনটি সেই জাতীয়। মশার হাত থেকে সুরক্ষাকে পরিবারের গভীরতর সুরক্ষা কামনার সঙ্গে জড়িয়ে ব্র্যান্ডের মান বাড়ানোর চেষ্টা।

আপাতদৃষ্টিতে বিজ্ঞাপনটি মহিলাদের ক্ষমতায়নের কথাই বলে। গল্পে স্পষ্ট ভাবে না হলেও একটা ইঙ্গিত আছে যে সন্তানটি পুত্র বলে হয়তো মায়ের ওপর স্বামী আর বাকিদের ক্রোধটা বেশি, টেবিলে তিনটি শিশুর মধ্যে সে একাই পুং। আবার মহিলারা সবাই মিলে মায়ের পেছনে লেগেছেন এর মধ্যে পিতৃতন্ত্র কী ভাবে মেয়েদের মধ্যে দিয়ে কাজ করে সেই চিহ্নও আমরা খুঁজতে পারি। লক্ষ্যণীয় যে শেষ কথাটি একজন পুরুষ বলেন। যখন মহিলার শাশুড়ি বাচ্চাটিকে বলেন, তোর মা তো তোকে খেতে দেবে না,  আমিই তোকে খাইয়ে দিচ্ছি, তখন কর্তা এমন ভাবে তাঁর স্ত্রীকে বলেন, ‘তোর নিজের খাবারের তুই খেয়াল রাখ,’ তাতে মনে হয় পরিবারে কোনও মহিলাই সম্মানের ভাত খান না। তাই পুত্রবধূর এই মর্যাদাও আসলে পুং সন্তানের সুশিক্ষার জন্যেই জরুরি মনে করা হচ্ছে।

আমরা সেই প্রশ্নেও আবার ফিরে আসি, বিজ্ঞাপনটিতে মেয়েদের একটা মর্যাদার ইঙ্গিত থাকলেও, আবার কি একটি মেয়ের জীবন ডুবে যাচ্ছে মায়ের ভূমিকায়?

 

 

 

এখন আলাপ’ এ প্রকাশিত লেখাগুলির পুনঃপ্রকাশ বা যেকোনো রকম ব্যবহার (বাণিজ্যিক/অবাণিজ্যিক) অনুমতি সাপেক্ষ এবং নতুন প্রকাশের ক্ষেত্রে ‘এখন আলাপ’ এর প্রতি ঋণস্বীকার বাঞ্ছনীয়। এই ব্লগে প্রকাশিত কোনো লেখা পুনঃপ্রকাশে আগ্রহী হলে আমাদের ইমেল-এ লিখে জানান ebongalap@gmail.com ঠিকানায়।
আমরা আপনাদের মতামতকে স্বাগত জানাই। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি অনুযায়ী মতামত প্রকাশিত হবে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

 


 
 

Ekhon Alap | এখন আলাপ

 

মাসকুলিনিটি-র এপিঠ ওপিঠ : সৌমিক নন্দী মজুমদারের সাথে কথোপকথন

একদিকে রয়েছে ঘরের পর ঘর ভর্তি বই, তেমনই আবার আছে রান্নাঘরের খুঁটিনাটি, আছে পরিপাটি গৃহস্থালির দায়-দায়িত্ব৷ বাড়িতে মা, দিদি ও বোনের সাথে বড় হলেও ‘ছেলেদের কাজ’-‘মেয়েদের কাজ’ ইত্যাদি মেরুকরণের মধ্যে বড় না হওয়া সৌমিক নন্দী মজুমদার৷ ছোটবেলা থেকেই বাড়ির কাজে ছিল তার প্রবল উৎসাহ, ঘর মোছা থেকে সুযোগ বুঝে ফাঁকতালে রান্নাঘরে ঢুকে পড়া—অথচ এসব কখনই অদ্ভুত মনে হয়নি বাড়ির কারো৷ আর পাঁচটা বাড়ির মত ছিলও না এই বাড়ি—বাবা অফিস থেকে ফিরেই ইস্তিরি করতেন, রান্না করতেন, মা শুনতেন ও শোনাতেন ‘অনুরোধের আসর’ বা রেডিওতে ‘চাষীভাইদের বলছি’, মোট কথা মেয়েদের কাজ বা পুরুষের কাজ এরকম স্পষ্ট বিভাজন ছিল না বাড়ির পরিবেশে৷ কিন্তু ইস্কুলে?

more | আরো দেখুন

 
 
 
Subscribe for updates | আপডেটের জন্য সাবস্ক্রাইব করুন


158/2A, Prince Anwar Shah Road (Ground Floor)
Kolkata - 700045
West Bengal, INDIA

contact@ebongalap.org

+91 858 287 4273

 
 
 

ekhon-alap

জেন্ডার বিষয়ে এবং আলাপ-এর ব্লগ 'এখন আলাপ'। পড়ুন, শেয়ার করুন। জমে উঠুক আড্ডা, তর্ক, আলাপ।

এখন আলাপ